শেফাইল উদ্দিন, কক্সবাজার:

কক্সবাজারের ঈদগাঁওতে অসহায় ও গরিব রোগীদের সাশ্রয়ী মূল্যে উন্নতমানের চিকিৎসা দেওয়ার বিশেষ প্রত্যয় নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে ৪৫ শয্যাবিশিষ্ট আধুনিক হাসপাতাল ‘ইউনিটি কেয়ার হোমস্ পিএলসি’। উদ্যোক্তাদের দাবি, এই হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ঈদগাঁওসহ পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবায় এক নতুন যুগের সূচনা হলো।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) জুমার নামাজের আগে আনন্দঘন ও জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে ফিতা ও কেক কেটে এবং স্বাক্ষর প্রদানের মাধ্যমে হাসপাতালটির শুভ উদ্বোধন করেন ঈদগাঁও-রামু ও কক্সবাজার আসনের সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান কাজল। উদ্বোধন শেষে প্রধান অতিথিসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা হাসপাতালের বিভিন্ন ইউনিট, আধুনিক যন্ত্রপাতি ও বিভাগগুলো পরিদর্শন করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এমপি লুৎফর রহমান কাজল ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কালাম, সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ্ব আব্দুস শুক্কুর, হাসপাতালটির ম্যানেজিং ডিরেক্টর রায়হানুল মোরছালীন, ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর মিজানুর রহমান মিজানসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শেয়ার হোল্ডার ও সকল পরিচালকবৃন্দ।

উদ্যোক্তারা জানান, ৪৫টি অত্যাধুনিক শয্যা, আন্তর্জাতিক মানের সর্বাধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তি এবং দক্ষ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে এটি ঈদগাঁওয়ের চিকিৎসা খাতে নতুন মাত্রা যোগ করবে। হাসপাতালে রয়েছে জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ (OPD), অন্তর্বিভাগ (IPD), নিখুঁত রোগ নির্ণয় কেন্দ্র (Diagnostic Center), আধুনিক অপারেশন থিয়েটার এবং রোগ প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা।
হাসপাতালের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর (ডিএমডি) মিজানুর রহমান মিজান বলেন, “আমাদের মূল লক্ষ্য সেবার সাথে যত্নের দারুণ এক সমন্বয় ঘটানো। অভিজ্ঞ চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সমন্বয়ে প্রতিটি রোগীর জন্য সঠিক রোগ নির্ণয় এবং ব্যক্তিভিত্তিক কার্যকর সেবা নিশ্চিত করা হবে অত্যন্ত স্বল্প খরচে। বিশেষায়িত বিভাগগুলোতে থাকছে আধুনিক প্রযুক্তির বিশেষ ব্যবস্থা।”

শুভ আত্মপ্রকাশ উপলক্ষে হাসপাতাল প্রাঙ্গণকে সাজানো হয় বর্ণাঢ্য সাজে। উদ্বোধন পূর্বে সকাল থেকে হাসপাতাল ভবনে আলেম-ওলামাদের উপস্থিতিতে খতমে কোরআন, বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। ডিনারের পাশাপাশি উপস্থিত সকলে হাসপাতালের সাফল্য ও স্থানীয় অসহায় মানুষের কল্যাণে এর কার্যকর ভূমিকা কামনা করেন।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, ‘ইউনিটি কেয়ার হোমস্ পিএলসি’ চালু হওয়ায় এখন থেকে সাধারণ ও অসহায় মানুষ হাতের নাগালের খরচে মানসম্মত চিকিৎসা পাবে, যা এলাকার স্বাস্থ্য খাতে এক বিরাট মাইলফলক হয়ে থাকবে।